আহট সিজন ৪ এপিসোড ১: খাজান মেল ও ব্লারা জংশনের অভিশপ্ত ট্রেনের রহস্য
(এটি আহট সিরিজের একটি কাল্পনিক, নাটকীয় টিভি এপিসোডের কাহিনি।)
আহট সিজন ৪ এপিসোড ১ শুরু হয় এমন এক রেলস্টেশন দিয়ে, যার নাম শুনলে শহরের পুরোনো ট্যাক্সিচালকও মাথা নাড়েন। ব্লারা জংশন নামে সত্যিই কোনো স্টেশন আছে কি না, দশজনকে জিজ্ঞেস করেও আকাশ তার উত্তর পায়নি। অথচ রিনা ঠিক সেখান থেকেই ফোন করে জানায়, সে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গেছে। তারপর সে হারিয়ে যায়। রিনার টিকিট ছিল খাজান মেল নামের একটি ট্রেনের, যাকে ক্যামেরায় ধরা যায় না, আর টিকিট ছাড়া যার দিকে তাকালে চোখ পুড়ে যায়। এই ট্রেন কেন বেছে বেছে কয়েকটি পরিবারকে নিয়ে যায়, আর ব্লারা জংশন কেন কারও চোখে পড়ে না? উত্তরের সূত্র লুকিয়ে আছে ত্রিশ বছর আগের এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায়।
আহট সিজন ৪ এপিসোড ১-এর শুরু: যে স্টেশন মানচিত্রে নেই
ফোনের এক প্রান্তে রিনা, অন্য প্রান্তে আকাশ। রিনা জানায়, সে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গেছে, আকাশ যেন তাড়াতাড়ি চলে আসে। আকাশ জিজ্ঞেস করে, আজই যাওয়ার কী দরকার ছিল, আর ট্রেন ধরতেই হলে এমন অচেনা জায়গা থেকে কেন। রিনার জবাব ছোট: তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে পালাতে হবে। কেন পালাতে হবে, এই পর্বে সে কথা স্পষ্ট করা হয়নি।
স্টেশনের নামটাই অদ্ভুত: ব্লারা জংশন। আকাশ দুই ঘণ্টা ধরে রাস্তায় চরকির মতো ঘুরেও সেটা খুঁজে পায়নি। যে ট্যাক্সিচালক পঁচিশ বছর ধরে এই শহরে গাড়ি চালাচ্ছেন, তিনিও কোনো যাত্রীর মুখে এই নাম শোনেননি।
রিনা যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানকার মানুষজন পুরোনো ধাঁচের পোশাক পরে আছে, যেন সত্তরের দশকের কোনো সিনেমা থেকে উঠে এসেছে। কথা চলতে চলতেই লাইন কেটে যায়। কিছুক্ষণ পরে রিনাকে আবার শোনা যায়। সে আকাশকে বিপদের মুহূর্তে একা ছেড়ে না দিতে অনুরোধ করে, সারাজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়। তারপর তাকে কাউকে ডাকতে আর দরজা খুলতে বলতে শোনা যায়, যেন সে কোথাও আটকা পড়েছে। এরপরই সে নিখোঁজ।
আত্মা-শিকারিদের (Paranormal Investigator) ডাক পড়ল
এখান থেকে গল্প যায় এমন এক ইনস্টিটিউটে, যেখানে রাঘব, হর্ষ এবং তাদের এক সঙ্গী ক্যামেরায় আত্মা বন্দি করার কাজ করে। রাতে তাদের ডেকে পাঠায় তাদের বস দুর্জন। রাঘব ও হর্ষ আন্দাজ করে, নিশ্চয়ই কোনো অস্বাভাবিক আত্মার ব্যাপার। বন্ধ দরজার পেছন থেকে রাতে চিৎকার ভেসে আসে। এতদিন কাজ করেও দুর্জনকে ভয় পায় হর্ষ। রাঘব একদিন ওই দরজাগুলো খুলে দেখতে চায় ভেতরে কারা আছে, হর্ষ তাকে নিষেধ করে। তাদের কথায় বোঝা যায়, তারা শুধু ইনস্টিটিউটের জন্যই কাজ করছে না, তিনজনেরই আত্মাদের খুঁজে বেড়ানোর ব্যক্তিগত কারণ আছে।
রাস্তার সেই রক্তমাখা ছায়া
রাস্তায় তারা এক রহস্যময় মূর্তিকে দেখে, যার হাতে রক্তমাখা কাপড়। সে কিছু করছে না, শুধু দাঁড়িয়ে আছে। রাঘব ক্যামেরা চালু করে, হর্ষ গাড়ি সাবধানে এগিয়ে নেয়। ফুটেজ দেখে তারা নিশ্চিত হয়, এটিও একটি আত্মা। ইনস্টিটিউটে ফিরে ক্যামেরাটি দুর্জনকে দেওয়া হয়। দুর্জন বলে, এটি খুব ভয়ংকর আত্মা, আর ওদের বলে যতই শব্দ আসুক, জায়গা ছেড়ে নড়া যাবে না।
কিন্তু রাঘব কৌতূহল সামলাতে পারে না। সে একটি দরজা খুলে ফেলে। ভেতরের সত্তা তার দিকে ছুটে আসে। ঘটনার পরে রাঘবের ধারণা হয়, ওটি তাকে কিছু বলতে চাইছিল। হর্ষের মতে, মারতে আসছিল। দুর্জন জানায়, সত্তাটি লাতিন ভাষায় বলছিল: যেখানেই লুকোও না কেন, সে ঠিক খুঁজে বের করবে।
সেন্ট্রাল স্টেশনের অদৃশ্য জানলা
এরপর দুর্জন তাদের আসল কেসটি দেখায়। সেন্ট্রাল স্টেশনে প্রচুর মানুষ থাকা সত্ত্বেও এক তরুণী একটি অদ্ভুত জানলা থেকে ট্রেনের টিকিট কেটেছে, যে জানলা কেউ দেখতে পায় না। তারপর মেয়েটি ট্রেনে উঠেছে, কিন্তু দিল্লি পৌঁছয়নি।
রিনার বাড়িতে প্রশ্নের মুখে আকাশ
রিনার মা প্রথমে আকাশকেই সন্দেহ করেন। আকাশ জানায়, তার রিনার সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সে স্টেশন খুঁজে পায়নি। রিনার সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় সে "ব্লারা জংশনে" ছিল। নামটা শুনেই মা চমকে ওঠেন। তিনি ধরে নেন, আকাশ মিথ্যে বলছে, কিংবা মেয়েকে অন্য কোথাও পাঠিয়েছে। আকাশ বারবার বলে, রিনা খাজান মেলের টিকিট কিনেছিল। হর্ষের মনে হয়, সে সত্যিই বলছে।
তদন্তকারীদের সামনে স্পষ্ট হয় একটি অস্বস্তিকর তথ্য: সেন্ট্রাল স্টেশনের ক্যামেরার ফুটেজে কোনো টিকিট জানলাই নেই। রিনার ভাই কুণালও বলে, ওখানে টিকিটের কোনো উইন্ডো নেই। রাঘবের কথায়, ক্যামেরাতেও তা-ই দেখা যাচ্ছে। তাই ধরে নেওয়া হয়, কোনো এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে, আর রিনা সম্ভবত তাকে দেখতে পাচ্ছিল। রিনার মা প্রশ্ন করেন, "আমার মেয়েই কেন?" তদন্তকারীরা সেই উত্তরই খুঁজতে এসেছে। আকাশ ব্লারা জংশন খুঁজে পায়নি শুনে তারা তাকে সেখানে নিয়ে যেতে রাজি হয়।
ব্লারা জংশনের প্রথম অভিযান
ব্লারা জংশনে তাদের সঙ্গে দেখা হয় স্টেশনের এক ব্যক্তির। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত ত্রিশ বছর ধরে এই স্টেশন ফাঁকা, কোনো ট্রেন আসে না, যায়ও না। এক ব্যক্তি তাদের বলেন, খাজান মেল এখানে আসে, এবং সে মৃত্যু নিয়ে আসে। তিনি এক রাঘবের হাত দেখে জানান, তার এক বন্ধু হাসপাতালে আছে, সে তার আত্মা খুঁজছে। তিনি সতর্ক করেন, পালাতে হবে, নইলে মৃত্যু হবে। এ প্রসঙ্গে প্রিয়া নামে কারও উল্লেখ আসে। সংলাপ থেকে তার পরিচয় ও সম্পর্ক বোঝা যায় না।
হঠাৎ ঠান্ডা লাগতে শুরু করে, আবহাওয়া বদলে যায়। দেখা যায় কয়েকজন নারী মেঝেতে রক্তের দাগ মোছার চেষ্টা করছেন। তাঁরা বলেন, ত্রিশ বছর ধরে মুছেও দাগ ওঠেনি। অথচ তদন্তকারীরা চারপাশে কোনো রক্ত দেখতে পায় না। নারীরা বারবার সতর্ক করেন, ট্রেনের দিকে তাকানো যাবে না।
ট্রেনের আওয়াজ শোনা যায়, কিন্তু ট্রেন দেখা যায় না। ক্যামেরার ফুটেজেও কিছু ধরা পড়ে না। এর থেকে রাঘবের সিদ্ধান্ত, ট্রেনটিও একটি আত্মা। নারীরা তদন্তকারীদের পাঠান স্টেশন মাস্টার সিংহুরির কাছে, যিনি ট্রেনটি দেখেছেন।
স্টেশন মাস্টার সিংহুরির সাক্ষ্য
সিংহুরিকে খুঁজে পেতে একটু সময় লাগে। প্রথমে তিনি ভয়ে কিছুই বলতে চান না, চিৎকার করে বলেন তিনি খাজান মেল দেখবেন না। তাঁকে শান্ত করা হলে তিনি যা বলেন, তাতে গল্পের কাঠামো স্পষ্ট হতে শুরু করে।
তিনি জানান, ১৯৭৯ সালের ১৩ই জুলাই একটি ট্রেন ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে পড়ে যায় এবং সব যাত্রী মারা যান। তারপর থেকে খাজান মেল চলতে থাকে। কোথা থেকে আসে, কোথায় যায়, কেউ জানে না। কখনো কখনো ব্লারা জংশনে থামে। যার কাছে টিকিট থাকে, তার জন্যই ট্রেন থামে, আর যে একবার ওঠে, সে আর নামতে পারে না।
দুর্ঘটনার রাতে ব্লারা জংশনে ডিউটিতে ছিলেন সিংহুরি নিজে। কোনো ট্রেন আসার কথা ছিল না। প্ল্যাটফর্মে লোক শুয়ে ছিল, হঠাৎ সবাই কাঁদতে শুরু করে। তারপর তিন-চারজন লোক সম্পূর্ণ ভিজে অবস্থায় ঘরে ঢুকে পড়ে, যদিও দরজা বন্ধ ছিল। ওই রাতের পরেই তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তাঁর মতে, ওরা ছিল ট্রেনে মরে যাওয়া যাত্রীদের আত্মা।
রিনার কাছে টিকিট ছিল বলেই কি ট্রেন থেমেছিল? তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তরে সিংহুরি বলেন, সেন্ট্রাল স্টেশনে ফিরে গিয়ে খুঁজলে হয়তো উত্তর পাওয়া যাবে।
টিকিটের জানলা আর যে ট্রেন চোখ পুড়িয়ে দেয়
সেন্ট্রাল স্টেশনে ফিরে দলটি টিকিটটি যেভাবেই হোক পেতে চায়, কারণ টিকিট না থাকলে ট্রেনে ওঠা যাবে না। কিন্তু জানলাটাই তাদের চোখে পড়ে না। তারা ক্যামেরা চালু রেখে আশপাশে ঘোরে।
এই সময়ে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। জামিনি হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে সে ফিরে এসে জানায়, মৃত লোকেরা তাকে জলের ভেতরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। সে ট্রেনের ভেতরেও গিয়েছিল, যেখানে মৃত যাত্রীরা ছিল, ছড়ানো জিনিসপত্র ছিল, আর একটি ছোট শিশুও ছিল। জামিনীর জামা শুকনো, অথচ ক্যামেরার ফুটেজে শুধু জল। সেই ফুটেজে এমন একটি জানলাও দেখা যায়, যা সোজা জলের ভেতরে গিয়ে পড়েছে।
আরেকজন তখন একটি জানলা থেকে বিনা পয়সায় খাজান মেলের টিকিট নিয়েছে। এক দল বন্ধু তাকে বিদায় দিতে এসেছিল। তারা মজা করছিল, কিন্তু টিকিটটা তাদের কাছে লটারির টিকিটের মতো লাগে। বন্ধুরা জানত, সে দিল্লি যাচ্ছে। তদন্তকারীরা বুঝতে পারে, সে ট্রেনে উঠতে সে ব্লারা জংশনেই গেছে।
ব্লারা জংশনে পৌঁছে বন্ধুরা প্ল্যাটফর্ম খালি দেখে, অন্ধকারে চারপাশ ঢাকা। তাদের একজন ভাবে, বাকিরা তাকে বোকা বানাচ্ছে। সে বলে, দুই মিনিটের মধ্যেই ট্রেন আসবে, তখন দেখা যাবে। এরপর ট্রেন আসে এবং টিকিট ছাড়া ব্যক্তিদের চোখ পুড়ে যায়। কী ঘটেছে জানতে চাইলে সে বলে, ট্রেনটা দেখামাত্র চোখ জ্বলে গেছে। বন্ধুটি ট্রেনে উঠে পড়েছে। আশপাশে সেই নারীরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন, যাঁরা বলেন, যাদের জন্য দুর্ঘটনা, ট্রেন তাদের পরিবারের সবাইকে তুলে নেবে।
ইনস্টিটিউটে ফিরে দুর্জন ক্ষুব্ধ হয়। সে বলে, অন্ধ আর মৃতদের আনার জন্য ওদের পাঠানো হয়নি। সে চায় ট্রেনের ভেতরে ঢুকে রেকর্ড করা হোক। কিন্তু টিকিট ছাড়া ট্রেনের দিকে তাকানোও যায় না, আর টিকিটের জানলাও সবাই দেখতে পায় না। শুধু রিনা পেরেছিল। তাই সিদ্ধান্ত হয়, রিনার পরিবারের কেউ গেলে হয়তো জানলাটা দেখতে পাবে।
কুমারের জানলা: ছয়টি টিকিট
জানলাটি যেখানে থাকার কথা, সেখানে গিয়েও কুণালের সঙ্গীরা কিছু দেখতে পায় না। কুণাল এগিয়ে যায়, এবং এবার জানলাটি তার চোখে ধরা পড়ে। ভেতরে একজন লোক বসে আছে। সে ছয়টি খাজান মেলের টিকিট দেয়, বিনা পয়সায়।
রিনার মা লোকটিকে চিনে ফেলেন। তিনি স্তম্ভিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, সে তো মারা গেছে। কুমার জবাব দেয়, সে মৃত, তবু টিকিট দিচ্ছে। তার অভিযোগ: রিনার মায়ের স্বামীও সেই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। যতক্ষণ না তারা সবাই মরছে, ট্রেন চলতেই থাকবে। রিনার মা বলেন, তাঁর মেয়ে ওই ট্রেনে বসে আছে। কুমার বলে, সে মরবে, তাঁর ছেলেও মরবে, সবাই মরবে।
রিনার মা জানান, কুমার তাঁর স্বামীর সঙ্গে কাজ করত। ত্রিশ বছর আগেই সে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যায়। কুমার দাবি করে, তার মৃত্যুর জন্য রিনার মায়ের স্বামী দায়ী। মা ছেলেকে ওই ট্রেনে যেতে নিষেধ করেন। কুণাল জেদ ধরে, রিনাকে ফিরিয়ে আনতে হলে তাকে যেতেই হবে। মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও সে বেরিয়ে পড়ে। যদি ট্রেনটাকে আটকানো যায় তাহলে সবাই বাঁচবে। তাই প্রশ্ন ওঠে, কুমারের সঙ্গে আর কে কে মারা গিয়েছিল।
দুর্ঘটনার আড়ালে লোভ: কুমারের স্ত্রী আর দুই পরিবার
জামিনী প্রথমে কুমারের স্ত্রীর কাছে যায় আর এদিকে বাকিরা ব্লারা আসে। সেখানকার লোকগুলো কিছুই বলে না, রেকর্ডিংয়েও শুধু অন্ধকার ধরা পড়ে। অর্থাৎ ওরা আত্মা। এদিকে রিনার মা কুমারের স্ত্রীকে বলেন, তিনি তার স্বামীকে ব্লারা জংশনে টিকিট বিক্রি করতে দেখেছেন। কুমারের স্ত্রীর কাছে স্বামীর শুধু অস্থিটুকু আছে। যেদিন ট্রেন সবার ওপর প্রতিশোধ নেবে, সেদিন তিনি সেই অস্থি জলে ভাসিয়ে দেবেন, তবেই স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে।
তাঁর অভিযোগ, ত্রিশ বছর আগের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী দিনেশ ও তার এক বন্ধু, যারা জানত ব্রিজটি ভাঙা, তবু কিছু করেনি। যাদের জন্য দুর্ঘটনা হয়েছিল, ট্রেন তাদের পুরো বংশকে ধ্বংস করবে, একজন একজন করে তুলবে। রিনার মা কাতর হয়ে মেয়েকে বাঁচাতে বলেন।
এরপর আরেক ব্যক্তির বাড়িতে যাওয়া হয়। তিনি জানান, তাঁর বাবাকেও খাজান মেল নিয়ে গেছে। তাঁর ধারণা, বাবারও দোষ ছিল। দুর্ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল বীমার টাকার লোভে, কতজন মারা গেছে কে জানে। বাবাকে খুঁজতে গিয়ে তিনি অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেন। একদিন বাবার আত্মা আসে, বাবা বলেন, ট্রেন সবাইকে মেরে ফেলবে, যারা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল তাদের, তাদের পরিবারকে, তারপর আরও সবাইকে। ব্যক্তিটি স্বীকার করেন, জানলে তিনি ট্রেনটাকে আগেই থামিয়ে দিতেন।
রিনার মা বলেন, তাঁর মেয়ে ট্রেনে বসে আছে, ছেলেও চলে গেছে। উপায় একটাই: ট্রেনের আত্মাকে জ্বালাতে হবে। যে পথ দিয়ে ট্রেন চলে, সেই পথ একেবারে শেষ করে দিতে হবে।
শেষ চেষ্টা: খাজান মেলকে থামানো
এর মধ্যে একটি জটিল তথ্য ধরা পড়ে। টিকিট থাকলে ট্রেন থামে বলে সিংহুরি জানিয়েছিলেন, কিন্তু এবার টিকিট হাতে থাকা সত্ত্বেও ট্রেন থামে না। এ থেকে বোঝা যায়, এসব নিয়ম পুরোপুরি ভরসাযোগ্য নয়।
রিনার মা ছেলেমেয়ের জীবনের আশঙ্কায় জামিনির সঙ্গে ছুটে যান, ট্রেনটাকে জ্বালাতে। এই দিকে স্টেশনে হর্ষ বারবার তাড়া দেয়, ট্রেন আসছে, তাড়াতাড়ি করতে হবে। ট্রেন এগিয়ে আসতে থাকে। ট্রেনের পথ শেষ করার সেই চেষ্টায় রাঘব বিপদে পড়ে এবং পরে হর্ষ ও অন্যরা তাকে টেনে তোলে।
শেষে সবাই ঠিক আছে কি না জিজ্ঞেস করা হয়। রাঘব বলে, রিনার মা ট্রেনটাকে শেষ না করলে কেউ বাঁচত না।
কুণাল ও রিনার পরিণতি
মা তখন ছেলের কথা জানতে চান। কুণাল কি রাঘবের সঙ্গে ছিল না? রাঘব জানায়, তারা অনেক চেষ্টা করেছিল। কুণাল আর বেঁচে নেই। মা মানতে পারেন না। তাঁর ছেলে তাঁকে ছেড়ে যেতে পারে না। তারপর তিনি মেয়ের কথা জানতে চান। উত্তর আসে, রিনাও আর বেঁচে নেই। ভেঙে পড়া মা ভগবানকে প্রশ্ন করেন, স্বামীর কাজের শাস্তি তাঁর ছেলেমেয়েকে কেন দেওয়া হল। রাঘব তাঁকে বলে, তাঁর সন্তানরা খুব সাহসী ছিল।
ট্রেন কি সত্যিই থামল?
শোকের মধ্যেই আবার ট্রেনের আওয়াজ শোনা যায়। ট্রেন আবার চলতে শুরু করেছে, এবং কাছে আসছে, যদিও তাকে দেখা যায় না। রাঘব হর্ষকে বলে, সবাই যেন সরে যায়, সে একাই দেখছে। এখন তার আর কোনো ভয় নেই।
ফুটেজ হাতে দুর্জন, প্রশ্ন রেখে সমাপ্তি
শেষ পর্যন্ত ট্রেনের ফুটেজ দুর্জনের হাতে পৌঁছয়। রাঘব বলে, সে যা চেয়েছিল, তা-ই এনে দেওয়া হল। দুর্জন বলে, সে জানত ওরা কোনো না কোনোভাবে ট্রেনের শট আনবেই। তারপর সে তাদের চলে যেতে বলে। রাঘব ও হর্ষ ভাবে, এই বস কেন কখনো তাদের সামনে আসে না।
আহটের এই পর্ব কী বলতে চায়: বিশ্লেষণ
পাপের উত্তরাধিকার। দুর্ঘটনা ঘটেছিল লোভ থেকে। ব্রিজ ভাঙা জেনেও কিছু না করা, বীমার টাকার জন্য মানুষের প্রাণ তুচ্ছ করা, এসবই ছিল অপরাধ। কিন্তু শাস্তি পেল তারাই, যাদের এই ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগ ছিল না: রিনা ও কুণাল। প্রতিশোধের এই যুক্তি ন্যায়বিচার, না নির্মমতা, গল্প সে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয় না। সেটা দর্শকের ব্যাখ্যার ওপর ছেড়ে দেওয়া।
অদৃশ্য ভয়। ট্রেনকে কখনো পুরোপুরি দেখানো হয় না। শুধু আওয়াজ, অন্ধকার ফুটেজ আর পুড়ে যাওয়া চোখের মধ্য দিয়ে তার উপস্থিতি বোঝানো হয়। অদৃশ্য শত্রু অনেক সময় চোখে দেখা দানবের চেয়েও বেশি আতঙ্ক ছড়ায়।
উপসংহার
খাজান মেলের পথ শেষ করা গেছে, এমন আভাস থাকলেও ট্রেন আবার ফিরে আসে। রিনা আর কুণাল ফিরল না, আর তাদের মা জানলেন, তাঁর স্বামীর অপরাধের মূল্য দিতে হল সন্তানদের। বস দুর্জন ফুটেজ দিয়ে কী করবে, বন্ধ দরজার ওপারে কারা চিৎকার করে, তা অজানা।
একজনের পাপ কি তার পরের প্রজন্ম বহন করতে বাধ্য?
Watch on Bengali
যদি আপনি এই এপিসোড বাংলায় দেখতে চান তাহলে ইউটিউব অথবা SonyLiv অ্যাপ এ দেখতে পারেন।
1. SonyLiv – Episode 1
2. Youtube – The Train Of The Dead
Watch on Hindi
হিন্দিতে দেখতে হলে একইরকম Sonyliv অথবা youtube এ দেখাতে পারেন।
Part 1
Part 2