আত্মা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তাকে বলে Possession, আর তার পরের ধাপ Exorcism। এটা আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু আত্মা কি কোনো প্রাণহীন বস্তুতেও আশ্রয় নিতে পারে? একটা পুতুলে, একটা বোর্ডে, এমনকি একটা আলমারিতে? আর যদি পারেই, তাহলে সেই বস্তুর ভেতরে যে আত্মা আছে, সেটা বোঝা যায় কীভাবে?
The Indian Paranormal Podcast-এর একটি পর্বে হোস্ট Rahul Chaudhary ঠিক এই প্রশ্নগুলোই রাখেন Paranormal Expert RJ Arsh Oracle-এর সামনে। আলোচনা শুরু হয় Annabelle Doll দিয়ে। কিন্তু একটু একটু করে সেটা পৌঁছে যায় ভারতের এমন একটা কেসে, যেটা আজও অমীমাংসিত: একটা ছোট্ট Panda Soft Toy, একজন একা থাকা মহিলা, আর একটা পরিত্যক্ত বাড়ি। সঙ্গে আছে অভিশাপ, বদদুয়া, Manifestation আর উজ্জয়িনীর প্রচলিত বিশ্বাসের প্রসঙ্গ।
একটা কথা শুরুতেই বলে রাখা ভালো। এখানে যা কিছু আসছে, সবই পডকাস্টের বক্তাদের নিজস্ব দাবি, অভিজ্ঞতা আর বিশ্বাস। আমরা সেগুলো যেমন শুনেছি, সেভাবেই তুলে ধরছি।
অভিশপ্ত বস্তু (Cursed Objects) বলতে কী বোঝায়?
Rahul-এর প্রশ্ন ছিল সরাসরি: Annabelle-এর মতো কোনো পুতুল কি সত্যিই ছিল, তার ভেতরে কি কারও আত্মা ছিল, আর থাকলে সেটা জানা গেল কীভাবে?
উত্তর দেওয়ার আগে Arsh উল্টে জানতে চান, প্রশ্নটা আসলে অভিশাপ আর অভিশপ্ত বস্তু নিয়ে কি না। কারণ তাঁর মতে এই ধরনের বস্তুর তালিকা শুধু Annabelle-এ আটকে নেই। তাতে আছে Ouija Board, আছে National Library, যেটিকে Haunted বলা হয়। ভারতেও এমন বহু জায়গা আছে যেগুলোকে Haunted ঘোষণা করা হয়েছে, আর Arsh-এর কথায়, সেখানে Archaeological Survey of India (ASI)-র বোর্ড পর্যন্ত লাগানো। তিনি আরও উল্লেখ করেন এমন একটা আলমারির কথা, যেটা নাকি অভিশপ্ত, আর এমন একটা ছবির কথা, যেটা নাকি মানুষকে খুন করে। তাঁর দাবি, এসবের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। ভারতেই এগুলো আছে।
অভিশাপ ও বদদুয়া কি সত্যিই কাজ করতে পারে?
মানুষ তো একে অপরকে বদদুয়া দেয়। কিন্তু কেউ কাউকে অভিশাপ দিলে সেটা কি সত্যিই ফলে যায়? সেই অভিশাপ কি অন্যের ক্ষতি করতে পারে?
Arsh প্রথমে একটা ধারণা পরিষ্কার করেন। তাঁর বক্তব্য, অভিশাপ আর বদদুয়ারও নিজস্ব একটা ফল থাকে। তিনি বলেন, বেদে নাকি লেখা আছে, প্রতিটি বরদানের সঙ্গে একটা অভিশাপ আসে, আবার প্রতিটি অভিশাপের সঙ্গেও একটা বরদান আসে। ইংরেজিতে এটাই Every Blessing Comes With a Curse। লোকে উল্টোটাও বলে: Every Curse Is a Blessing in Disguise। (বেদের ঠিক কোন অংশে এই কথা আছে, আলোচনায় তা বলা হয়নি।)
সনাতন ধর্মের পৌরাণিক কাহিনিতে ঋষি-মুনিদের অভিশাপের গল্প অনেক। নারদ মুনির ওপর অভিশাপ নেমে এসেছিল, এই প্রসঙ্গ পডকাস্টে এসেছে। ঋষি পরশুরামের কথাও এসেছে, যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি লোকজনকে ঘন ঘন অভিশাপ দিতেন।
অভিশাপের পেছনে Spiritual Awareness ও Conviction Power
Arsh-এর ব্যাখ্যায় অভিশাপ দেওয়া মানে একজনকে কুপিত করা, অর্থাৎ কোনো কিছু পছন্দ না হওয়ায় তাকে কিছু বলে ফেলা। কিন্তু তাঁর মতে ব্যাপারটা শুধু রাগে থেমে থাকে না। তখন ব্যক্তির Spiritual Awareness কাজ করে, তাঁর Higher Self কাজ করে। শুধু Conscious আর Subconscious নয়, Unconscious Mind-ও একসঙ্গে মিলে একটা Sound তৈরি করে।
সেই শব্দ যত বেশি Conviction Power নিয়ে উচ্চারিত হয়, আর বক্তার Awareness যত বেশি থাকে, ততই সেটা তার Energy-র সঙ্গে বাঁধা পড়ে যায়। কারণ Arsh-এর কথায়, Energy নিজেই কিছুর সঙ্গে বাঁধা পড়তে চায়। অর্থাৎ তাঁর দাবি, Conviction যত জোরালো, অভিশাপের Energy তত শক্তিশালী।
Manifestation কী এবং কীভাবে কাজ করে?
এখানে Rahul আরেকটা প্রশ্ন তোলেন। Law of Attraction-এর কথা আমরা শুনেছি: কোনো কিছু এত তীব্রভাবে চাইলে নাকি পুরো মহাবিশ্ব সেটা পাইয়ে দিতে লেগে পড়ে। তাহলে Manifestation কি ভালো আর খারাপ, দুই রকমই হতে পারে? আর সেটা কি শুধু নিজের জন্য, নাকি অন্যের জীবনেও প্রভাব ফেলে?
Arsh অভিশাপের প্রসঙ্গ কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে Manifestation নিয়ে সংক্ষেপে বলেন। তিনি নিজেই মানেন, বিষয়টা খুব বিশাল আর গভীর। তাঁর ব্যাখ্যায় Affirmation আর Manifestation সেই ব্যাপার, যেখানে কেউ বলে, "আমি ভেবেছিলাম এটা হবে, আর সেটা হয়ে গেল", কিংবা "আমি Universe-এর কাছে এটা Manifest করেছিলাম।" তাঁর মতে, এর পেছনে কাজ করে মানুষের ভেতরের Spirit, তার Higher Self। কেউ যখন বড় Conviction Power নিয়ে কোনো কিছু বলে, তখন সেটা Higher Self বা Universe-এর কাছে পৌঁছয়।
এখানে তিনি সামবেদের উল্লেখ করেন, যেখানে নাকি বলা আছে আমাদের জীবনে Frequency-র ভূমিকা অনেক বড়। একই Sound Frequency বা Vibration নিয়ে Universe-এর কাছে কিছু চাইলে সেটা কোনো না কোনোভাবে কাজ করতে শুরু করে।
তবে সেটা যে তাৎক্ষণিক নয়, এ ব্যাপারে Arsh স্পষ্ট। কেউ খুব জোর দিয়ে Manifest করল যে তার কাছে টাকা আসবে, আর অমনি টাকা এসে গেল, এমন হয় না। কাজটা শুরু হয়, ধীরে ধীরে, Energy একটু একটু করে সেই দিকে বইতে থাকে।
বড়দের বদদুয়া নিয়ে এত ভয় কেন?
"বড়দের হায় নিতে নেই", "ওঁদের বদদুয়া নিয়ো না", এই কথাগুলো আমরা ছোট থেকেই শুনে আসছি। Arsh-এর ব্যাখ্যায় এর পেছনে একটা যুক্তি আছে। বয়স্করা দীর্ঘ জীবন কাটিয়েছেন। তাঁরা অনেক কিছু দেখেছেন, বুঝেছেন, আর সম্ভবত অনেক কিছু Manifest-ও করেছেন। এই অভিজ্ঞতার ফলে তাঁদের Higher Self আর Manifestation বা Conviction Power আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন তাঁদের মুখের কথা কার্যকর হয়।
তবে সেই সঙ্গে তিনি একটা সীমাও টেনে দেন। একশো জন Manifest করলে সবার ইচ্ছে পূরণ হবে, এমন নয়। সম্ভাবনা খুব কম। তবু তাঁর পরামর্শ, Affirmation আর Positivity ধরে রাখা উচিত, কারণ এর বিকল্প নেই। তাঁর যুক্তি, মানুষ Negative হতে পারে না, এমন নয়। বরং নিজেকে শূন্য রাখলে সে Negative-এর দিকেই গড়িয়ে যায়, আর নিজের বাইরে এমন কিছু নেই যা তাকে Positive দিকে টেনে তুলতে পারে।
Annabelle Doll-এর অভিশপ্ত হওয়ার রহস্য
এবার Rahul আবার ফিরে আসেন Annabelle-এ। Arsh-এর চোখে এটা প্রশ্নে ভরা একটা কেস। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পুতুলটাকে প্রতিবার আলাদা আলাদা ভাবে রাখা হতো, কিন্তু কীভাবে যেন সেটা নিজে থেকে সেই জায়গায় চলে আসত। তিনি বলেন, পুতুলটা নাকি মানুষকে খুন করতে শুরু করেছিল, অথচ তার গায়ে রক্তের কোনো দাগ থাকত না। শেষ কথাটা তিনি স্পষ্টভাবে "লোকের বক্তব্য" বলেই উল্লেখ করেন।
তবে নিজের মত তিনি লুকোননি: তাঁর চোখে Annabelle অভিশপ্ত ছিল। কিন্তু Annabelle নিজে খুন করত না। তার ওপর যে অভিশাপ লাগানো ছিল, সেই অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত Energy-গুলোই মানুষের ক্ষতি করত।
ভারতের Panda Soft Toy-এর ঘটনা
Rahul এই জায়গায় বলেন, কথার চেয়ে কাজ বেশি জোরে কথা বলে। তিনি জানতে চান, Annabelle-এর মতো কোনো কেস Arsh নিজে ভারতে সামলেছেন কি না। Arsh বলেন, হ্যাঁ, সামলেছেন। তবে মহিলার নাম আর তিনি কোথায় থাকেন, সেটা গোপন রাখবেন।
ঘটনার শুরু কয়েকটা ছবি দিয়ে। Arsh-দের Paranormal Societies নামে একটা গ্রুপ ছিল। সেখানে এক মহিলা তিনটি ছবি পাঠান।
- প্রথম ছবিতে ছোট একটা Baby Panda Soft Toy, রাখা আছে পেছনের একটা আলমারির ওপর।
- দ্বিতীয় ছবিতে একই খেলনা নিচে, সোফার ওপর।
- তৃতীয় ছবিতে সেই Panda বিছানার ঠিক মাঝখানে, উল্টো মুখ করে বসে আছে।
তারপর আসে শেষ ভিডিওটা। Arsh-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ভিডিওতে Panda-টা প্রথমে ছিল ওপরের আলমারিতে। কীভাবে সেটা নিচে পড়ল, বোঝা যায় না, কারণ পড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। ক্যামেরা এমনভাবে বসানো ছিল যে সোফা আর তার ওপরের জিনিস দেখা যাচ্ছিল, মেঝে দেখা যাচ্ছিল খুব সামান্যই। তবু Arsh বলেন, সেখানে যে কেউ ছিল না, এটা নিশ্চিত, কারণ মহিলা পুরো প্রমাণটাই পাঠিয়েছিলেন।
এরপর যা ঘটল, সেটাই সবচেয়ে অদ্ভুত। Panda নিচে পড়ার প্রায় এক-দুই মিনিট পর সেটা নিজে থেকে সোজা হয়ে উঠে বসে গেল। Rahul জিজ্ঞেস করেন, এটা কি Arsh ভিডিওতে দেখেছেন। Arsh বলেন, হ্যাঁ, আর সেই ভিডিও আজও তাঁর কাছে আছে। তাঁর ভাষায়, কথায় শুনতে ব্যাপারটা খুব সাধারণ লাগে, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের কাছে এটা ভীষণ ভয়ের। এবং তাঁর মতে, Annabelle-এর মতো এই বস্তুটাও অভিশপ্ত।
বাড়িতে ঘটতে থাকা অস্বাভাবিক ঘটনা
Rahul জানতে চান, Annabelle যেমন মানুষের ক্ষতি করত, এই খেলনাটা কি মালিকের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিল? Arsh বলেন, মহিলা তাঁকে জানিয়েছিলেন সরাসরি কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। কিন্তু বাড়িতে যে নতুন জিনিসই আসছে, এক-দু'দিনের মধ্যে সেটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
- নতুন টেলিভিশন কেনার পর মহিলা সবার আগে Panda-টাকে তার ওপরেই বসিয়েছিলেন। পরের দিন টিভি ভেঙে যায়। মেরামত করিয়ে তিনি সেটা আবার সেই জায়গাতেই রাখেন।
- কিছুদিন পর যে সোফায় Panda-টাকে দেখা গিয়েছিল, সেই সোফায় আঁচড়ের দাগ পড়তে শুরু করে, আর ভেতর থেকে তুলো বেরিয়ে আসে। Arsh-এর বর্ণনায়, কীভাবে হলো কেউ জানে না, এক রাতেই পুরো সোফার ওপর আঁচড় পড়ে গিয়েছিল।
Arsh এখানে মনে করিয়ে দেন, মহিলা একা থাকতেন, তাঁর সঙ্গে আর কেউ থাকত না। Rahul-এর কথায়, তাহলে অন্য কোনো মানুষ, বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী এসে এসব করবে, এটা সম্ভবই নয়। Arsh সেই কথায় সায় দেন। যদিও এই সম্ভাবনাগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, আলোচনায় তা বলা হয়নি।
শিশুর হাতে খেলনা তুলে দেওয়ার পর কী ঘটেছিল?
মহিলা Arsh-কে আরও জানিয়েছিলেন যে তিনি একবার Panda-টা একটি বাচ্চাকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দেওয়ার পর সেই রাতেই বাচ্চাটির শরীর খুব খারাপ হয়ে যায় এবং তাকে ICU-তে ভর্তি করতে হয়।
সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো খবরটা এরপর। বাচ্চাটির হাতে তখনও খেলনাটা ছিল। সে সেটা এত জোরে আঁকড়ে ধরেছিল যে জোর করে ছাড়াতে গেলে তার হাত ভেঙে যেত।
এই কেসের সমাধান কি হয়েছিল?
Rahul জানতে চান, Arsh কীভাবে কেসটা সমাধান করলেন। উত্তরটা অপ্রত্যাশিত: কেসটা আজও সমাধান হয়নি। Arsh নিজেই বলেন, এটা তাঁর সেই কয়েকটা কেসের একটা, যেগুলো মীমাংসা হয়নি। তাঁর কথায়, তিনি ঈশ্বর নন, সব কেস সমাধান করতে পারেন না। কিছু কেস বোঝার বাইরে। নিজের পুরো জ্ঞান লাগিয়েও সেগুলোর সমাধান না-ও হতে পারে।
Rahul তখন জানতে চান, তাহলে Panda-টা কি এখনও Possessed, আর সেই পরিবারকে কি এখনও সমস্যায় ফেলছে? Arsh বলেন, খেলনাটা আজও আছে, সেই একই বাড়িতে। তিনি নিজে যেটুকু করেছিলেন, সেটা হলো মহিলাকে ওই Soft Toy-এর Bond থেকে সরিয়ে দেওয়া। এখন বাড়িটায় আর কেউ থাকে না, তবু খেলনাটা সেখানেই আছে। Arsh-এর কথায়, আজও ওই বাড়িতে গেলে সেটাকে দেখা যায় বলে বলা হয়।
বাকি অংশটা আশপাশের মানুষের বিশ্বাস। তারা রাতে বাড়িটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কখনও খেলনাটাকে গেটে ঝুলতে দেখেছে, কখনও ছাদে বসে থাকতে দেখেছে। Arsh-এর কথায়, খেলনাটা কিন্তু বাড়ির সীমানার বাইরে আসে না।
একটা বস্তু কীভাবে অভিশপ্ত হয়ে উঠতে পারে?
Panda আর মহিলার Bond-এর কথা শুনে Rahul-এর মনে পড়ে যায় কিছু চেনা ছবি। চৌরাস্তায় কেউ মাটির হাঁড়ি বা কলসে মন্ত্র পড়ে জিনিসপত্র বেঁধে ফেলে রেখে গেছে। বাড়িতে লেবু-লঙ্কা ঝোলানো, যেটা খুবই চেনা ব্যাপার। আর লোকমুখে শোনা বশীকরণের মতো শব্দ। তাঁর মনে হয়, Arsh-এর বর্ণনা কিছুটা বশীকরণের মতো শোনাচ্ছে।
Arsh বলেন, বশীকরণ ষট্কর্মের অন্তর্গত। এই ষট্কর্ম হলো মারণ, মোহন, বশীকরণ, স্তম্ভন, উচ্চাটন ও বিদ্বেষণ। তাঁর দাবি, এগুলো শিব রাবণকে উপদেশ হিসেবে দিয়েছিলেন। ষট্কর্ম নিয়ে তিনি পরে বিস্তারিত আলোচনা করার কথা জানান।
কিন্তু কোনো Cursed Object-এর সঙ্গে Bond মানে ঠিক কী? Arsh বলেন, মহিলাকে সেই Bond থেকে মুক্ত করার জন্য তিনি শুধু একটা কাজই করেছিলেন। প্রথমে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন, বস্তুটা আসলে কী কারণে অভিশপ্ত। তাঁর ব্যাখ্যায় সম্ভাব্য কারণ চারটে:
1. মানুষের দেওয়া অভিশাপ: কোনো মানুষ বস্তুটাকে অভিশাপ দিয়েছে।
2. তান্ত্রিকের মন্ত্রশক্তি: কোনো তান্ত্রিক নিজের মন্ত্রের শক্তিতে বস্তুটাকে বেঁধে দিয়েছেন, আর তাতেই সেটা অভিশপ্ত হয়ে গেছে।
3. কোনো Entity-কে আহ্বান করে বস্তুতে আবদ্ধ করা: তান্ত্রিক নিজের ইচ্ছেমতো কোনো Entity-কে ডেকে এনে তাকে একটা কাজ দিয়েছেন। সেই Entity যতক্ষণ কাজটা শেষ না করছে, ততক্ষণ সে ওই বস্তুর ভেতরেই থাকবে। এই কেসে বস্তুটা ছিল Soft Toy।
4. বংশপরম্পরার অভিশাপ: অনেক প্রজন্ম আগে কেউ হয়তো কোনো অভিশাপ দিয়েছিল, আর সেটা ধীরে ধীরে রূপ পাল্টাতে পাল্টাতে এই পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে।
শেষ সম্ভাবনা নিয়ে Arsh আরও বলেন, কিছু অভিশাপ শুধু এই জীবনে নয়, প্রতিটি প্রজন্ম পর্যন্ত মানুষের পিছু ছাড়ে না।
দক্ষিণ ভারতের রাজপরিবারের প্রজন্মগত অভিশাপ
প্রজন্মগত অভিশাপের কথা উঠতেই Rahul-এর একটা গল্প মনে পড়ে যায়। তিনি নিজেই বলেন, গল্পটা তাঁর পুরোপুরি মনে নেই। দক্ষিণ ভারতের কোনো একটা রাজ্য বা রাজপরিবারকে নাকি অভিশাপ দেওয়া হয়েছিল যে সেই পরিবারে কখনও ছেলে জন্মাবে না। বহু বছর, বহু প্রজন্ম ধরে নাকি এমনটাই ঘটছে, আর সেখানকার রাজারা তাই সন্তান দত্তক নিয়ে আসছেন। তিনি Arsh-কে জিজ্ঞেস করেন, এমন কোনো কেসের কথা তিনি জানেন কি না। পরিবারটির নাম বা সঠিক অবস্থান পডকাস্টে বলা হয়নি, তাই এই দাবি আমরা যাচাই করতে পারছি না।
Arsh এই নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি বরং ভারতের বৈচিত্র্যের কথা তোলেন। এই দেশে নানা ধর্ম, নানা ভাষা, কত রকমের বিশ্বাস। আর এর একটা সহজ উদাহরণ হিসেবে তিনি টেনে আনেন উজ্জয়িনীর মহাকালকে।
উজ্জয়িনীর মহাকাল ও রাজা বিক্রমাদিত্যের অভিশাপের কাহিনি
উজ্জয়িনীর নাম আমরা সবাই শুনেছি। রাজা বিক্রমাদিত্যের নামও। ছোটবেলায় বিক্রম-বেতালের গল্পও আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু Arsh-এর কথায়, এর সঙ্গে আরও একটা সত্যি আছে। মহাকালের উজ্জয়িনীতে আজ পর্যন্ত কোনো খুব ধনী মানুষ বা সেখানকার কোনো রাজা হয়ে উঠতে পারেননি, শুধু ভগবান শিব ছাড়া। কোনো রাজা সেই গদিতে বসলে সেখানে টিকতে পারতেন না। আজ পর্যন্ত নাকি কেউ ওই সিংহাসনে স্থায়ীভাবে বসতে পারেননি। Arsh বলেন, সম্ভবত এটাই সেই অভিশাপ। এটা প্রচলিত বিশ্বাস আর বক্তার দাবি, ঐতিহাসিকভাবে যাচাই করা তথ্য নয়।
এটা কি শুধুই Coincidence?
Rahul এখানে আপত্তি তোলেন। যাকে অভিশাপ বলা হচ্ছে, সেটা কি নিছক Coincidence হতে পারে না?
Arsh উল্টে প্রশ্ন করেন: সেটা যদি শুধুই Coincidence হতো, তাহলে বিক্রমাদিত্যের পর অন্য কেউ কি সেখানে রাজা হিসেবে টিকে থাকতে পারতেন না? সেখানে তো এমন কোনো সময় ছিল না যখন রাজা ছিলেন না। তাঁর কথায়, রাজা যে হননি, তা নয়। রাজা হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সিংহাসন ছেড়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন। তিনি যুক্তি দেন, এটা Coincidence হতে পারে না। Hallucination একজনের হতে পারে, দু'জনের হতে পারে, কিন্তু পঞ্চাশ-ষাটজনের একসঙ্গে Hallucination হয় না। (এই সংখ্যার কোনো সূত্র আলোচনায় দেওয়া হয়নি।)
Rahul বলেন, Hallucination না-ই বলা হোক, Arsh তো একটু আগেই Destiny আর Chance-এর কথা বলেছিলেন। তাঁর মাথায় একটা এলোমেলো উদাহরণ আসে: IPL-এ RCB। বহু বছর ধরে ভালো ভালো খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও দলটা হেরে চলেছে। এটাকে কেউ Curse বলতে পারে, কিন্তু সেটা যে Curse-ই হবে, এমন কোনো কথা নেই। Rahul-এর মতে, সবকিছুকে অভিশাপ বলাটা একটু বাড়াবাড়ি।
Arsh বলেন, তিনি Rahul-এর সঙ্গে একমতও, আবার একমত নন। তাঁর যুক্তি, Paranormal আর Normal-এর মধ্যে আমরা তফাত করি কারণ আমরা এসব নিয়ে পড়াশোনা করেছি, তাই আমাদের সামনে ছবিটা অনেক পরিষ্কার। বিক্রমাদিত্যের কাহিনিতে বেতাল ছিল, রাজার সঙ্গে বেতালের প্রশ্নোত্তর হতো। Arsh-এর মতে, এই কাহিনি শুধু গল্প নয়, বরং বিক্রমাদিত্যের বীরত্বের গাথা। তিনি দাবি করেন, গোটা শহর, এমনকি পুরো দুনিয়া জানে যে এটা সত্যি, কারণ এর প্রমাণ আছে। কী প্রমাণ, সেটা তিনি এখানে বলেননি। এই কারণেই তাঁর চোখে অভিশাপ কোনো বস্তুর হতে পারে, কোনো স্থানের হতে পারে, আবার কোনো আত্মারও হতে পারে।
ভানগড় দুর্গ ও মালচা মহল: পরের প্রশ্ন
অভিশপ্ত স্থানের প্রসঙ্গ আসতেই পডকাস্টে দুটো নাম উঠে আসে: ভানগড় দুর্গ (Bhangarh Fort) আর মালচা মহল (Malcha Mahal)। এই জায়গাগুলো কি সত্যিই Haunted? পডকাস্টের এই অংশে সেই উত্তর মেলেনি। শ্রোতাদের জানানো হয়েছে, এর উত্তর পাওয়া যাবে পরবর্তী আলোচনায়।
অভিশাপ বলব, নাকি যা ব্যাখ্যা করা যায় না?
Panda Soft Toy-এর কেসটা আজও সমাধান হয়নি। Arsh নিজেই মেনে নিয়েছেন, সব Paranormal Case-এর ব্যাখ্যা মেলে না। তাহলে প্রশ্নটা থেকেই যায়: যে ঘটনার ব্যাখ্যা আমরা পাই না, তাকে কি অভিশাপ বলে মেনে নেব, নাকি ব্যাখ্যাহীন বলেই রেখে দেব?
এই লেখাটি The Indian Paranormal Podcast-এর একটি পর্ব অবলম্বনে তৈরি। হোস্ট: Rahul Chaudhary। Paranormal Expert: RJ Arsh Oracle। লেখা: Subham Halder। লেখায় উল্লিখিত সমস্ত অভিজ্ঞতা ও তদন্তের বিবরণ পডকাস্টের বক্তাদের নিজস্ব বক্তব্য।