আত্মা কী এবং আত্মা ও স্পিরিটের পার্থক্য কী?

ভূত, আত্মা, প্রেত ও স্পিরিটের মধ্যে পার্থক্য কী? মৃত্যুর পর আত্মার কী হয়, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার তাৎপর্য, নিয়তি ও এক্সরসিজম সম্পর্কে জানুন। Visit Now!

আত্মা ও স্পিরিটের পার্থক্য, ভূত কী, অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার তাৎপর্য, যমপাশ, নিয়তি ও কর্ম

ছোটবেলা থেকে ভূতের সিনেমা আর ধারাবাহিক দেখে বড় হই আমরা অনেকেই, অথচ যুক্তি দিয়ে বিষয়টা কখনও মেলাতে পারি না। আত্মা কী? আত্মা, স্পিরিট (Spirit) আর ভূত কি একই জিনিস? মৃত্যুর পর শরীর থেকে ঠিক কী বেরিয়ে যায়? ইন্ডিয়ান প্যারানর্মাল পডকাস্টের একটি পর্বে উপস্থাপক রাহুল চৌধুরী এই প্রশ্নগুলোই রাখেন আর্শ ওরাকলের (RJ Arsh Oracle) সামনে। এই লেখায় সেই আলোচনার সারকথা আছে। সঙ্গে আছে কোন কথাটা বক্তার বিশ্বাস, কোনটা শাস্ত্র বা লোকাচারের দাবি এবং কোনটা প্রমাণিত নয়, সেই পার্থক্যও।

এই আলোচনায় কী জানা যাবে?
  • আত্মা, সোল ও স্পিরিটের মধ্যে পার্থক্য কী?
  • মৃত্যুর পর আত্মা বা স্পিরিটের কী হয় বলে বিশ্বাস করা হয়?
  • অন্ত্যেষ্টিতে যমপাশ ও অন্যান্য আচার পালনের তাৎপর্য কী?
  • প্রবল ইচ্ছা নিয়ে মারা গেলে কেউ ভূত হয়, এমন ধারণা কেন প্রচলিত?
  • নিয়তি ও কর্মের সম্পর্ক কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন আর্শ?
আত্মা কী এবং আত্মা ও স্পিরিটের মধ্যে পার্থক্য কী—ভৌতিক আবহে আত্মা ও স্পিরিটের রহস্যময় বাংলা থাম্বনেইল।
আত্মা কী এবং আত্মা ও স্পিরিটের মধ্যে পার্থক্য কী—ভৌতিক আবহে আত্মা ও স্পিরিটের রহস্য।

প্রশ্নের শুরু: সংশয়ী মন কেন উত্তর খোঁজে?

রাহুল নিজেকে পাশ্চাত্য শিক্ষায় বেড়ে ওঠা একজন সংশয়বাদী হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর কথায়, এই শিক্ষা ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করার অনুমতি দেয় না। তবু ভূত-প্রেতের কথা তিনি শুনেছেন, ছোটবেলা থেকে সিনেমা আর সিরিয়ালও দেখেছেন, কিন্তু বিষয়টা নিয়ে যুক্তিসঙ্গত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি তাই জানতে চান, আত্মা মূলত কী, আর আত্মা, প্রেত, ভূত ও পিশাচের মধ্যে আদৌ পার্থক্য আছে কি না।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: রাহুল আর্শকে "প্যারানর্মাল এক্সপার্ট" বলে পরিচয় করালেও আর্শ নিজে বলেন, তিনি বিশেষজ্ঞ নন, "একজন কৌতূহলী মানুষ" মাত্র, এবং যতটুকু জানেন ততটুকুই বলবেন। আর আলোচনায় সোল (Soul) ও স্পিরিটের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা হলেও প্রেত বা পিশাচের আলাদা সংজ্ঞা কোথাও আসেনি।

সোল ও স্পিরিট: আর্শের ব্যাখ্যায় দুটি আলাদা ধারণা

প্রাণ, আত্মা ও জীবাত্মার আলোচনা সরিয়ে রেখে আর্শ ইংরেজি শব্দ "সোল" ও "স্পিরিট" দিয়ে বোঝান, যাতে সবার বুঝতে সুবিধা হয়। তাঁর মতে মানুষ প্রায়ই এ দুটোকে গুলিয়ে ফেলে, যেমন "ওর সোল চলে গেছে" বা "ওর স্পিরিটকে দেখেছি"।

আর্শ প্রথমে নিজের ধারণাকে "কাঁচা বোঝাপড়া" বলে শুরু করেন: সোল একটি সার্বজনীন জিনিস, আর স্পিরিট ব্যক্তিগত ও আত্মগত। এরপর তিনি আরও বিস্তারিত ধারণা দেন:

  • সোল (Soul): আর্শের মতে, এটি শরীর, শক্তি ও মন—এই তিনটি জিনিসের সমন্বয়ে তৈরি।
  • স্পিরিট (Spirit): তাঁর ব্যাখ্যায় এটি অচেতন মনের (Unconscious Mind) অংশ, যা এখনও অনাবিষ্কৃত।

মনের তিনটি স্তর হলো সচেতন (Conscious), অবচেতন (Subconscious) ও অচেতন (Unconscious)। আর্শের মতে সচেতন ও অবচেতন মনকে আমরা কিছুটা চিনতে পেরেছি, তাই সেটিই সোল। অচেতন মনে অসংখ্য স্মৃতি জমা থাকে, আর সেটিই স্পিরিট। খুব কম মানুষ এই পার্থক্য খেয়াল করে বলে তিনি মনে করেন, কারণ দুটোকে সবার কাছে একই রকম মনে হয়।

যুক্তির জায়গাটি খেয়াল করুন: এটি আর্শের নিজস্ব বোঝাপড়া। আত্মা ও মনের এই বিভাজন কোনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক মডেল নয়। তাঁর দুটি বর্ণনাও পুরোপুরি মেলে না: প্রথমে সোলকে সার্বজনীন বলা হলো, পরে বলা হলো সোল শরীর, শক্তি ও মনের সমষ্টি। আলোচনায় এই অসংগতির ব্যাখ্যা আসেনি।

মৃত্যুর পর কী হয়? অন্ত্যেষ্টি ও তার প্রতীকী ক্রিয়া

আর্শ স্বীকার করেন, মৃত্যুর পরের জীবন তিনি নিজে দেখেননি। তিনি যা বলেন, তা শাস্ত্র ও বেদের উল্লেখ এবং প্রচলিত আচার থেকে। রাহুলও জানান, সম্প্রতি তিনি নিজের পরিবারে কিছু মৃত্যু দেখেছেন, তাই এই ক্রিয়াগুলোর অর্থ তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও প্রাসঙ্গিক।

কপালক্রিয়া ও পায়ে পেরেক

আলোচনায় কপালক্রিয়ার নাম আসে, তবে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আর্শ আরও বলেন, কিছু গ্রামে মৃতের পায়ে বড় পেরেক পোঁতার আচারও আছে। আচার অঞ্চলভেদে আলাদা, এটুকুই তিনি জানান।

কপালে চন্দনকাঠির আঘাত

দাহের আগের ক্রিয়ার সময় মৃতদেহের কপালে, অর্থাৎ দুই ভুরুর মাঝখানে আজ্ঞাচক্রের জায়গায় (Ajna Chakra), চন্দনকাঠি দিয়ে হালকা আঘাত করা হয়। আর্শের মতে এই জায়গা থেকেই আমাদের সব স্মৃতি একসঙ্গে পরিচালিত হয়। আঘাতের উদ্দেশ্য, মানুষ সারা জীবনে যে স্মৃতি জমিয়েছে, তা যেন মৃত্যুর পর তার সঙ্গে না যায়।

বিশ্বাস ও প্রমাণের পার্থক্য: আজ্ঞাচক্র থেকে সব স্মৃতি পরিচালিত হয়, কিংবা মৃত্যুর পর স্মৃতি সঙ্গে না নেওয়ার জন্য এই আচার করা হয়—এগুলো আর্শের ব্যাখ্যা। আলোচনায় এই দাবিগুলোর পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

পায়ের বুড়ো আঙুলে সুতোর বাঁধন ও যমপাশ

মৃত্যুর পর দুই পায়ের বুড়ো আঙুল সুতো দিয়ে বাঁধা হয়, তারপর মরদেহ দাহের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। আর্শের ব্যাখ্যায় এটি যমপাশ, যা যমদূতেরা পরিয়ে দেন। বাঁধার সময় পুরোহিত যে মন্ত্র পড়েন, সেটি যমদূতদের আহ্বান করার মন্ত্র। তার পরই স্পিরিট এই জগৎ ছেড়ে যায়।

এরপর নদী পার হওয়া এবং নানা বাধার কথা শাস্ত্রে বর্ণিত আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, তবে সেটি পরে আলোচনা করবেন বলে রেখে দেন। গরুড় পুরাণে এ বিষয়ে অনেক কিছু বর্ণিত আছে, কিন্তু আর্শ নিজে নিশ্চিত নন বলে এর গভীরে যাননি।

ভূত কীভাবে তৈরি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়?

আর্শের যুক্তির ধাপগুলো এরকম:

  1. দাহের পর শরীর ও মন, দুটোই শেষ। বাকি থাকে শক্তি আর স্পিরিট।
  2. শক্তিকে ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না, সে শুধু রূপ বদলাতে পারে।
  3. মৃত্যুর সময় কারও মনে কোনো প্রবল ইচ্ছা বা স্মৃতি থাকলে তার শক্তি অস্থির থাকে। শরীর নেই, তাই সেই শক্তি আবার সেই মানুষেরই রূপ নেওয়ার চেষ্টা করে।
  4. একে আমরা "ভূত দেখা" বলি। আর্শের মতে ভূত আসলে সেই শক্তি, যা নিজের উপস্থিতির আভাস দেয়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কারও মৃত্যুর পর অনেকেই দাবি করেন, তাঁকে বহুদিন সেই বিছানাতেই দেখা গেছে।

স্পিরিটের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য আলাদা: স্পিরিট এই জগতে থেমে থাকে না। যত সময়ই লাগুক, সে চলে যায়। অর্থাৎ তাঁর ব্যাখ্যায় ভূত হলো অতৃপ্ত শক্তি, আর স্পিরিট যমপাশের পর বিদায় নেয়।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ: শক্তির সংরক্ষণসূত্র পদার্থবিদ্যার প্রতিষ্ঠিত নিয়ম, কিন্তু সেই সূত্র থেকে "মৃত ব্যক্তির স্মৃতি বা ইচ্ছা শক্তি হয়ে ফিরে আসে" সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি বক্তার ব্যাখ্যা।

অন্ত্যেষ্টির ক্রিয়ার অর্থ কী: শুধুই বিদায় জানানো, নাকি আরও কিছু?

রাহুল জানতে চান, প্রাণী মরলে মাটিতে মিশে যায়, অথচ মানুষের মৃত্যুতে এত ক্রিয়া কেন হয়? হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান—সব ধর্মেই আচার আলাদা। এগুলো কি শুধু প্রিয়জনকে ভালোভাবে বিদায় দেওয়ার মানসিক প্রয়োজনে, নাকি এর কোনো অস্তিত্বগত অর্থও আছে? শক্তির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি? আর না করলে কী হয়?

আর্শ বলেন, শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্যই আছে। না করলে কী হয়, সে বিষয়ে তাঁর নিজের মতে বিশেষ কিছু হয় না, তবে সবকিছুই একটি প্রক্রিয়ার অংশ। অন্যদিকে অনেকে বলেন, ঠিকমতো না করলে মৃতের আত্মা অতৃপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। এটি তিনি লোকমত হিসেবে উল্লেখ করেন, নিজের দাবি হিসেবে নয়।

চুল ও পায়ের বুড়ো আঙুল: "দৃশ্যমান প্যারানর্মাল"

আর্শ বলেন, মুণ্ডন (Shaving of the Head) মানুষের জীবনে বারবার আসে: সাধারণ কারণে, শিশুর দেড় বছর বয়সে, আবার অন্ত্যেষ্টিতেও। চুল উৎসর্গ করার আলাদা তাৎপর্য আছে। তাঁর মতে শরীরেই এমন কিছু অংশ আছে, যাকে "দৃশ্যমান প্যারানর্মাল" বলা যায়, যেমন মাথার চুল আর পায়ের বুড়ো আঙুল। তাঁর সংজ্ঞায় প্যারানর্মাল মানে মানুষের সাধারণ বোঝাপড়ার বাইরের কিছু।

তিনি বলেন, প্রাচীন গ্রন্থে লেখা আছে, চুল ও বুড়ো আঙুলে সবচেয়ে বেশি শক্তি থাকে। গ্রন্থের নাম তিনি উল্লেখ করেননি, তাই এই দাবি যাচাই করা যায়নি।

প্রণামের সময় কেন বুড়ো আঙুল?

রাহুল প্রশ্ন তোলেন, প্রণামে কেন বুড়ো আঙুলই ছুঁতে হয়, আর গুরুজন কেন মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন, কানে হাত রাখলেও তো পারতেন। তাঁর নিজের ধারণা, মাথায় হাত রাখা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে "আমি তোমার যত্ন করি" বোঝায়, অর্থাৎ ব্যাখ্যাটা সাংস্কৃতিক। আর্শ মানেন, এই উত্তর তেমন সন্তোষজনক নয় এবং বাস্তবসম্মত কি না, তা নিশ্চিত নয়।

আর্শের ব্যাখ্যা অন্যরকম। দেবতার ছবিতে হাত অনেক সময় সামনের দিকে, দর্শকের মুখের দিকে প্রসারিত থাকে, যাতে মূর্তির ইতিবাচক শক্তি দর্শকের কাছে পৌঁছায়। প্রণামের সময় গুরুজন মাথায় হাত রেখে সেই ইতিবাচক শক্তি স্থানান্তর করেন। আর যে ব্যক্তি বুড়ো আঙুল স্পর্শ করে, সে গুরুজনের শক্তি অনুভব করে ও গ্রহণ করে। এজন্যই বড়রা বলতেন, "হাঁটু নয়, বুড়ো আঙুল ছোঁও।" এটি বিশ্বাসভিত্তিক ব্যাখ্যা, যার সপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ইতিবাচক ও নেতিবাচক শক্তি: আলোচনায় কী বলা হলো?

রাহুল জানতে চান, শক্তি তো শুধু শক্তি, তা ইতিবাচক বা নেতিবাচক হয় কীভাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আর্শের আগে দেওয়া বিদ্যুতের তারের উপমার কথাও তোলেন, যেটি এই অংশে শোনা যায় না, তাই এখানে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

আর্শ সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, পৃথিবীতে তিনটি জিনিস আছে: ভালো, মন্দ ও শূন্য, গণিতের প্লাস, মাইনাস ও জিরোর মতো। প্রশংসা, নিন্দা বা ভূত-ভগবানের উদাহরণও তিনি দেন। তাঁর যুক্তিতে ঈশ্বর ও শয়তান থাকলে একটি নিরপেক্ষ সত্তাও থাকতে পারে। শক্তি কীভাবে ইতিবাচক বা নেতিবাচক হয়, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা আলোচনায় আসেনি।

সবাই অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে মরে, তবু সবাই ভূত হয় না কেন?

রাহুল এখানে সবচেয়ে ধারালো প্রশ্নটি তোলেন। আর্শ বলেছিলেন, প্রবল ইচ্ছা নিয়ে মরলে আত্মা অতৃপ্ত থাকে, শূন্যে বিলীন হতে পারে না। কিন্তু রাহুলের কথায়, প্রায় প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো চাপা ইচ্ছা নিয়ে বাঁচে এবং মারা যায়। সবাই পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে মরে, এটা তিনি মানতে রাজি নন। তাহলে কেউ ভূত হয়, বাকিরা হয় না কেন?

আর্শ স্বীকার করেন, প্রশ্নটি ন্যায্য এবং লাখো মানুষের মনে এটি আছে। তাঁর কাছেও লোকে প্রায়ই এটি জানতে চায়। তাঁর একটাই উত্তর: নিয়তি।

নিয়তির রাস্তা

আর্শ জানান, তিনি বৈদিক পরিভাষায় না গিয়ে সাধারণ ভাষায় নিয়তি বোঝাবেন, কারণ সেটা অনেকের কাছে জটিল হতে পারে। তাঁর মতে জীবন একটি লম্বা রাস্তা, যার শেষ প্রান্তে একটি পুরস্কার বা গন্তব্য আছে। আমরা রাস্তার শুরুর দিকে দাঁড়িয়ে। রাস্তার দুই পাশে খাদ, চলার জন্য শুধু এই রাস্তাই আছে। গাড়ি, সাইকেল, এসব মাধ্যম কোনটা বেছে নেব, সেটা আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপার। রাস্তাটাই নিয়তি। সেটি কখনও বদলায় না, ওপর থেকে আগেই লেখা হয়ে গেছে।

আর্শের উপমায়: রাস্তা হলো নিয়তি, আর সেই রাস্তায় এগিয়ে চলার জন্য বেছে নেওয়া যানবাহন হলো আমাদের কর্মপদ্ধতি।

সবই যদি আগে থেকে লেখা থাকে, তবে কর্মের দরকার কী? আর্শের জবাব, যানবাহনে না উঠলে বা কোনো চেষ্টা না করলে কেউ গন্তব্যে পৌঁছাবে না। তাই কর্ম করতেই হবে, যাতে নিয়তির রাস্তায় আমরা স্বচ্ছন্দে এগোতে পারি। আমরা হোঁচট খাব, উঠে দাঁড়াব, আবার চলব, কারণ জীবন কারও জন্য থামে না। শক্তির জগতেও পরিস্থিতি অনেকটা এরকম, এবং আর্শের মতে এখানেই প্যারানর্মাল ও নর্মালের পার্থক্য। কথাটা অস্পষ্ট, আলোচনায় এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই।

রাহুল জিজ্ঞেস করেন, এই গন্তব্য মানুষ নিজে ঠিক করে, নাকি ওপর থেকে কেউ লিখে দেয়। আর্শ শুধু বলেন, অন্তিম গন্তব্য মোক্ষ, যা প্রতিটি মানুষ চায়। কে সেই গন্তব্য নির্ধারণ করে, এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর আলোচনায় মেলেনি।

আলোচনা থেকে কী পাই, আর কী বাকি থাকে?

এই আলোচনায় আত্মা, স্পিরিট আর ভূত নিয়ে বক্তার ব্যাখ্যা শাস্ত্র, লোকাচার ও নিজস্ব ধারণার মিশ্রণ। সোল-স্পিরিটের বিভাজন, চুল ও বুড়ো আঙুলে শক্তির দাবি এবং ভূতকে অতৃপ্ত শক্তি হিসেবে দেখা—এর কোনোটিই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। আবার একে শুধুমাত্র "ভুল" বলে উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। অন্ত্যেষ্টির আচার যে বহু সংস্কৃতিতে মৃত্যুভাবনার গভীর অংশ, সেটা বাস্তব।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি:
  • প্রেত ও পিশাচের মধ্যে পার্থক্য কী?
  • সোল ও স্পিরিটের সংজ্ঞার অসংগতি কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
  • শক্তি ইতিবাচক বা নেতিবাচক হয় কীভাবে?
  • প্রবল ইচ্ছা নিয়ে মারা গেলেও কেন সবাই ভূত হয় না বলে বিশ্বাস করা হয়?

আলোচনার শেষে পরের পর্বের প্রতিশ্রুতি আছে: আত্মা কি সত্যিই কোনো শরীরে ঢুকতে পারে, আর ঝাড়ফুঁকে তাড়ানো (Exorcism) কি বাস্তব?

আপনার মতামত কী?

আপনার পরিবারে মৃত্যুর পর কোন আচারটি পালন করা হয়েছে, আর আপনার কাছে তার অর্থ কী ছিল—প্রতীক, স্মৃতি, নাকি আরও কিছু? মন্তব্যে আপনার অভিজ্ঞতা ও মতামত জানাতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. আত্মা আর স্পিরিটের পার্থক্য কী?

আর্শের ব্যাখ্যায় সোল তৈরি শরীর, শক্তি ও মন দিয়ে, আর স্পিরিট অচেতন মনের অনাবিষ্কৃত অংশ, যেখানে অসংখ্য স্মৃতি জমা থাকে। এটি বক্তার নিজস্ব বোঝাপড়া, প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক মডেল নয়।

২. ভূত কীভাবে তৈরি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়?

আলোচনা অনুযায়ী, প্রবল ইচ্ছা বা স্মৃতি নিয়ে মারা গেলে সেই ব্যক্তির অস্থির শক্তি আবার তার রূপ নেওয়ার চেষ্টা করে। এই ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

৩. অন্ত্যেষ্টিতে পায়ের বুড়ো আঙুল বাঁধা হয় কেন?

আর্শের ব্যাখ্যায় এই সুতো যমপাশ, যা যমদূতেরা পরিয়ে দেন। পুরোহিত যমদূতকে ডাকার মন্ত্র পড়েন, এরপর স্পিরিট জগৎ ছেড়ে যায়।

৪. প্রণামে বুড়ো আঙুল ছোঁয়া হয় কেন?

আর্শের ব্যাখ্যায় চুল ও বুড়ো আঙুলে সবচেয়ে বেশি শক্তি থাকে, তাই বুড়ো আঙুল ছুঁলে গুরুজনের ইতিবাচক শক্তি পাওয়া যায়। রাহুলের মতে, মাথায় হাত রাখা সাংস্কৃতিক প্রতীক হতে পারে। কোনো ব্যাখ্যাই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

৫. ঠিকমতো অন্ত্যেষ্টি না হলে কী হয়?

আর্শের নিজের মতে বিশেষ কিছু হয় না, তবে সবকিছুই একটি প্রক্রিয়া। অনেকে বিশ্বাস করেন, ঠিকমতো আচার পালন না করলে আত্মা অতৃপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

Episode Details 28.04.2023

EP 1: Normal vs Paranormal

The Indian Paranormal Podcast
What happens when a skeptic meets a Paranormal expert? Listen to The Indian Paranormal Podcast with RJ Arsh and Rahul to find out.
Language: Hindi
Origin: India
Duration: 16 min
Studio: Eight Studios
Cast & Crew:
• RJ Arsh Oracle — Subject Matter Expert
• Rahul Chaudhary — Host
• Nikunj Kansal — Associate Producer
• Eight Studios — Producer

About the author

Subham Halder
I am the creator and author of True Horror Feed. I researches and writes about true scary stories, paranormal experiences, folklore, urban legends, mythology, and unexplained incidents, with an emphasis on distinguishing documented information from …

Post a Comment

Have you experienced something similar? Tell us below! 👁️