পাপী ব্যক্তির লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় | True Paranormal Experience

ফেনীতে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পথে নতুন গাড়ি বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। লাইট ও সাইরেনও কাজ করছিল না। কিন্তু মরদেহ নামানোর পর সব ঠিক হয়ে যায়—কেন? রহস্যই!

ইবনে সিনা থেকে একজন মৃত ব্যক্তির মরদেহ ফেনীতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। মরদেহটি আমার নিজের গাড়িতে তোলা হলো। এরপর সেটি নিয়ে যাওয়া হলো ধানমন্ডির একটি মসজিদে, যেখানে মরদেহটিকে গোসল করানো হয়।

ফেনীতে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া নতুন গাড়ি, আতঙ্কিত চালক, মরদেহ বহনকারী ব্যক্তিরা এবং রহস্যময় পরিবেশের একটি বাস্তবধর্মী ভৌতিক দৃশ্য।
পাপী ব্যক্তির লাশ নিয়ে যাওয়ার সময়

গোসল করানোর পর আটজন মানুষ মরদেহের সঙ্গে গাড়িতে উঠে বসলেন। গাড়িতে আমি এবং আমার একজন সহকারীও ছিলাম। মৃত ব্যক্তির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আমাদের সঙ্গে যাচ্ছিলেন। তাঁদের জন্য আলাদা একটি হাইয়েস গাড়ির ব্যবস্থা ছিল। এভাবে দুটি গাড়ি একসঙ্গে ফেনীর উদ্দেশে রওনা দিলাম। তখন দিনের প্রায় বারোটা বাজে।

সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছে আমি গাড়িতে গ্যাস নিলাম। সময়টা তখন সাড়ে এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে হবে। গ্যাস নেওয়ার পর আবার যাত্রা শুরু করলাম। কিন্তু এক কিলোমিটার যাওয়ার আগেই হঠাৎ আমার গাড়ি বন্ধ হয়ে গেল। অথচ গাড়িটি ছিল একেবারে নতুন, মাত্রই কেনা।

দুই-তিনবার সেলফ দেওয়ার পর গাড়িটি আবার স্টার্ট হলো। আমিও নতুন করে যাত্রা শুরু করলাম। কিন্তু কিছুদূর এগোনোর পর থেকেই আমার মাথা ব্যথা করতে শুরু করল। ধীরে ধীরে শরীর দুর্বল হয়ে আসছিল। এর কিছুক্ষণ পর গাড়িটি আবার বন্ধ হয়ে গেল।

পুরো রাস্তাজুড়েই একই ঘটনা ঘটতে থাকল। কখনো দুই-চার কিলোমিটার, আবার কখনো বড়জোর দশ কিলোমিটার যাওয়ার পর গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। প্রতিবারই আমাকে গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো। এরপর আবার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করতাম। শুধু গাড়িই নয়, গাড়ির ওপরের ইমারজেন্সি লাইটও নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সাইরেনসহ অন্যান্য ব্যবস্থাও কাজ করছিল না।

গাড়ির ভেতরে থাকা লোকজন বারবার তাড়া দিচ্ছিলেন। তাঁরা বলছিলেন, ভাই, একটু তাড়াতাড়ি যান। আমাদের জানাজার নামাজ পড়াতে হবে। কিন্তু আমি যত দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম, গাড়ি যেন কিছুতেই এগোতে চাইছিল না।

শহরের মধ্যে ঢোকার পর আমার শরীর আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ একটি সিএনজির সঙ্গে আমার গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে আমার গাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে সিএনজিটির বাইরের টিনের অংশে সামান্য ক্ষতি হয়েছিল।

সিএনজিচালক প্রথমে আমার ওপর বেশ রেগে গেলেন। কিন্তু পরে তিনি আমার গাড়ির ভেতরে তাকিয়ে মরদেহটি দেখতে পেলেন। এরপর আর কিছু বললেন না। শুধু বললেন, তাহলে যান। আপনার গাড়িতে যেহেতু লাশ আছে, আপনাকে মাফ করে দিলাম।

ঘটনাটি আমাকে আরও ভাবিয়ে তুলেছিল। কারণ, আগে শুনেছিলাম, রাতের বেলা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় কখনো কখনো গাড়িতে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, লাইটও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সেদিন তো দুপুর ছিল! তার ওপর মরদেহটিকে গোসলও করানো হয়েছিল। তাহলে আমার গাড়ির সঙ্গে এমনটা কেন ঘটছিল, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না।

ফেনীতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটা বেজে গেল। তখনো আসরের আজান হয়নি। এ সময় আমার সহকারী আমাকে বলল, ভাই, এই মরদেহের মানুষটি হয়তো ভালো ছিলেন না। অনেক পাপী মানুষ বা নামাজ না পড়া ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় নাকি এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

এরপর আমি গাড়ি থেকে নামলাম। মরদেহটি নামিয়ে খাটিয়ায় তোলা হলো। তখন আমার স্টাফ বলল, ভাই, এবার গাড়িটা স্টার্ট দিয়ে দেখেন তো কোনো সমস্যা হয় কি না। লাইট জ্বালিয়ে দেখেন, সাইরেন বাজিয়ে দেখেন, সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে কি না।

আমি গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিলাম। আশ্চর্যজনকভাবে, একবারেই গাড়ি স্টার্ট হয়ে গেল। সাইরেনও বাজল, ইমারজেন্সি লাইটসহ সবকিছু স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করল। অথচ মরদেহটি গাড়িতে থাকা অবস্থায় আমি বহুবার চেষ্টা করেও এসব চালু করতে পারিনি। আমার সহকারীসহ গাড়িতে থাকা অন্য লোকজনও বিষয়টি দেখেছিলেন।

এদিকে আশপাশের কয়েকজন মানুষের কথাবার্তা আমার কানে আসছিল। কেউ বলছিলেন, লোকটি ভালো ছিলেন। আবার এ কথাও শোনা যাচ্ছিল যে এলাকার মানুষ তাঁকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। তিনি ছিলেন এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং মানুষের ওপর জুলুম ও অত্যাচার করতেন।

এসব কথা শুনে আমার শরীরের সমস্ত শক্তি যেন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। তখন আমার স্টাফ বলল, ভাই, এবার বুঝলেন তো? আমি আপনাকে আগেই বলেছিলাম, এই লাশ ভালো ছিল না।

এরপর আমরা সেখান থেকে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, ফেরার পথে আর একবারও গাড়িতে কোনো সমস্যা হয়নি।

কিন্তু আজও আমার মনে সেই প্রশ্নটা রয়ে গেছে—মরদেহটি গাড়িতে থাকা অবস্থায় বারবার গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল কেন? আর মরদেহ নামানোর পরই বা কীভাবে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল?

আপনাদের কারও কি কখনো মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়, কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে গাড়ির সঙ্গে এমন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে? আপনাদের অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানাতে পারেন।

এই গল্পের বক্তা

About the author

Subham Halder
I am the creator and author of True Horror Feed. I researches and writes about true scary stories, paranormal experiences, folklore, urban legends, mythology, and unexplained incidents, with an emphasis on distinguishing documented information from …

Post a Comment

Have you experienced something similar? Tell us below! 👁️